প্রকৃত সংস্কার চাইলে গণভোটে জনগণকে স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে: রিজওয়ানা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, প্রকৃত সংস্কার চাইলে গণভোটে জনগণকে স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে এবং ভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নাগরিক পদক-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনের দ্বিতীয় ভোটটি হবে গণভোট, যা রাষ্ট্রক্ষমতার ভার জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনার একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, এই গণভোটে অংশ না নেওয়া, চুপ করে থাকা বা ‘না’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো সংস্কারের সুযোগ আরও বহু বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া।
সংস্কার প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকার এসব সংস্কার বিষয়ে ব্যাখ্যামূলক নোট ও প্রচারণামূলক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরছে। প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব এগুলো পড়ে বোঝা এবং নিজের মতামত ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করা।
ভয়ের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর আলামত ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন সফল হয়েছিল কারণ মানুষ ভয়ের কাছে হার মানেনি। যেসব আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ভয়কে জয় করতে না পারা।
তরুণ সমাজের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে তুলে ধরে রিজওয়ানা হাসান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের অবদান ছিল নির্ণায়ক। এখন সেই তরুণদেরই গণতন্ত্রকে টেকসই করতে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু স্বৈরাচার পতন হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না; গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে হলে নাগরিকদের সচেতন ও সক্রিয় ভোটার হতে হবে।
অনুষ্ঠানে যারা নাগরিক পদক পেয়েছেন, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ে। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাজ আরও নিবিড়ভাবে মানুষের নজরে আসে, ফলে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে যায়।
মন্তব্য করুন
