ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে ঘিরে একটি গুরুতর অভিযোগ নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নিশ্বাপলাশবাড়ী গ্রামের এক বাসায় তিনি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ভাতিজার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ‘বনোফুল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত হওয়ার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কিছু গ্রামবাসী দাবি করেছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে অনেকে ভয় পাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রমাণিত নয় এবং কোনো আইনগত রায়ও হয়নি। অন্যদিকে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং যে ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কয়েকজন নেতা তার আচরণ নিয়ে পূর্বেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন, যদিও এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য প্রকাশ পায়নি।
এলাকায় আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যেখানে তাকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে, কিন্তু ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সভায় আলোচনা হতে পারে। সংসদীয় আসন-৬ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সাত্তার মিলনও জানিয়েছেন, বিষয়টি দলীয় এজেন্ডায় তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে স্থানীয় অনেকেই বলছেন, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়েরই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় এবং জনমনে থাকা বিভ্রান্তি দূর হয়। সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, ফলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই বলে সচেতন মহল মনে করছে।
