ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন পুতিন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার (১ মার্চ) প্রকাশিত আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ নেতা এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এটিকে মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো শোকবার্তায় বলেন, খামেনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মস্কো সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়। এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘জঘন্য হামলা’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে, খামেনি তাদের আন্দোলন, রাজনৈতিক দাবি ও প্রতিরোধ সংগ্রামে বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন। সংগঠনটি আরও বলেছে, এ হামলার দায় সম্পূর্ণভাবে বহন করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও ইসরায়েলকে এবং এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
হামাস আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন রাজনৈতিক, আইনি ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। অন্যদিকে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী আইআরজিসি প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি। সংস্থাটির বরাতে বলা হয়, সরকারি নিশ্চিতকরণের পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায় তারা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছে এবং তার শাহাদত প্রমাণ করে যে তিনি শত্রুদের জন্য ভয় ও উদ্বেগের কারণ ছিলেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাদের হাতে সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র নির্মূলে বাহিনী বদ্ধপরিকর।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দাবি সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নতুন করে পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে যাচাই-বাছাই করা তথ্যের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি সামরিক বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি বৈশ্বিক কূটনীতি, নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
