বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে কম সময় রোজা হবে কোন কোন দেশে?
রমজান মাসে রোজার সময়কাল নির্ধারিত হয় ফজরের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের ওপর ভিত্তি করে। ফলে পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থানভেদে রোজার দৈর্ঘ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভিন্ন হওয়ায় কোথাও রোজা দীর্ঘ, আবার কোথাও তুলনামূলক কম সময়ের হয়। এ বছর বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে কম সময় রোজা হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে খালিজ টাইমস।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভৌগোলিকভাবে যেসব দেশ বিষুবরেখার কাছাকাছি বা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত, সেসব অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য সাধারণত কম বা প্রায় সমান থাকে। এর প্রভাব পড়ে রোজার সময়ের ওপরও। ফলে এসব দেশে মুসল্লিদের রোজা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের হয়। বিশেষ করে বিষুবীয় অঞ্চলের দেশগুলো—যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও কেনিয়া—এখানে রোজার সময় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। সাধারণত এসব দেশে রোজার সময় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা অনেক মুসল্লির জন্য স্বস্তিদায়ক।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজার সময়কাল মাঝামাঝি পর্যায়ের হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা বলা যায়। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের রমজানের প্রথম দিনে সেখানে রোজার সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট হতে পারে। এটি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ মিনিট কম। যদিও রমজানের শেষ দিকে গিয়ে দিনের দৈর্ঘ্য কিছুটা বাড়ে, তবে পুরো মাসে রোজার সময়ের তারতম্য সাধারণত খুব বেশি হয় না।
এদিকে রমজান মাস প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। এর ফলে যখন রমজান শীতকালীন সময়ের কাছাকাছি পড়ে, তখন উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশেও রোজার সময় কিছুটা কমে যায়। এতে দীর্ঘ সময় রোজা রাখা অঞ্চলের মুসল্লিরাও কিছুটা স্বস্তি অনুভব করেন। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতুচক্রের এই প্রভাবই বিশ্বজুড়ে রোজার সময়ের ভিন্নতার প্রধান কারণ।
