বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এলো পাকিস্তান, জানা গেল আসল কারণ
প্রায় দশ দিন ধরে চলা টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান অবশেষে ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যস্থতায় অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামগ্রিক ক্রিকেটীয় স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকার ও আইসিসি পৃথক বিবৃতিতে জানায়, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক গুরুত্ব, সম্প্রচার স্বার্থ এবং ম্যাচটি না হলে অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। আইসিসি ও পিসিবি সূত্রে জানা যায়, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হওয়ায় এর ওপর সম্প্রচারকারী সংস্থা ও স্পনসরদের বড় ধরনের আর্থিক নির্ভরতা রয়েছে।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশও পাকিস্তানকে ম্যাচ বর্জন না করার অনুরোধ জানায়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যিনি এ ইস্যুতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আলোচনার ফলাফল ও মিত্র দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতেই জাতীয় দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা ও চেতনা বজায় থাকে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পুরো আলোচনায় বাংলাদেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল।
বিসিবি সামগ্রিক ক্রিকেট স্বার্থ বিবেচনায় পাকিস্তানকে ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানায় এবং আইসিসি স্পষ্ট করে দেয়, ভারত সফরে না যাওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ২০২৮-৩১ মেয়াদে বাংলাদেশকে আরও একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ায় বিসিবি সন্তোষ প্রকাশ করে। সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক সমঝোতা, আর্থিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক ক্রিকেট সম্পর্কের সমন্বয়েই দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটে।
